চুক্তি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ও দোষারোপের রাজনীতি বন্ধ করুন—–দীপংকর তালুকদার

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নেতিবাচক মনোভাব ও দোষারোপের রাজনীতি না করে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করার আহবান জানিছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। তিনি বলেন, চুক্তি নিয়ে রাজনীতি না করে চুক্তি চলমান বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সরকারকে সহায়তা করা উচিত। চুক্তি নিয়ে শুধু দোষারোপ করা হলে চলবে না। চুক্তি বাস্তবায়নে এক মত হয়ে কাজ করতে পারলে সুফল আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২ ডিসেম্বর শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এর উদ্যোগে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে চুক্তির দু’দশক পূর্তিতে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। জেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে পৌরসভা প্রাঙ্গণে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। নানা শ্রেণী পেশার মানুষ এই আনন্দ শোভাযাত্রায় ও সমাবেশে যোগ দেয়। পরে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয়।
রাঙ্গামাটির মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙ্গামাটি উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফারুক, জেলা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বরসহ অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা র‌্যালী ও আলোচনা সভায় যোগ দেন।
সমাবেশে দীপংকর তালুকদার আরো বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির অনেক ধারা বাস্তবায়ন করেছে। আরো অনেক ধারা বাস্তবায়নের কাজ চলমান। তিনি চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সকলকে সহযোগিতা করার আহবান জানান।
এদিকে, আমাদের কাপ্তাই প্রতিনিধি কাজী মোশাররফ হোসেন জানান, ‘পাহাড়ী বাঙ্গালী ভাই ভাই সবাই আমরা শান্তি চাই’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শান্তি চুক্তির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৯ বিজিবি তথা ওয়া¹াছড়া জোনের উদ্যোগে শনিবার (২ ডিসেম্বর) কাপ্তাইয়ে বিশাল শান্তি র‌্যালীর আয়োজন করা হয়। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে শুরু করে শান্তি র‌্যালী কাপ্তাই উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় এসে শেষ হয়। শান্তি র‌্যালীর উদ্বোধন করেন ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম পিএসসি। র‌্যালী উপলক্ষে রংবেরঙের ব্যানার ফেস্টুন ও প্লেকার্ড বহন করেন স্থানীয় সর্বস্তরের গন্যমান্য ব্যক্তি ও নারী পুরুষ। র‌্যালীতে অংশ নেন বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলম, কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ড. এম. এম. এ কাদের, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অংসুইছাইন চৌধুরী, ১০ আনসার ব্যাটালিয়নের উপ-পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন, কাপ্তাই থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ নুর, চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবী, কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ, কেপিএমের মহাব্যবস্থাপক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খানসহ অন্যান্য গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শান্তি র‌্যালীর প্রধান শ্লোগান ছিল পাহাড়ী বাঙ্গালী ভাই ভাই সবাই আমরা শান্তি চাই। শান্তি র‌্যালীতে পাহাড়ী বাঙ্গালীর সমাহার থাকায় ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম পিএসসি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২৬ বছর পূর্তি উদযাপন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে অঙ্গিকারাবদ্ধ ——পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আইন বহাল রাখার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে আশু করণীয় শীর্ষক-গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত : উপনিবেশিক ও অসাংবিধানিক ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আইন বহাল রাখার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে হবে–সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক এমপি