মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, খাগড়াছড়ি থেকে: খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত প্রার্থী উশ্যেপ্রু মারমা (আনারস) ৬হাজার ৮শ ৯৫ ভোট পেয়ে বে-সরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেমং মারমা (নৌকা) পেয়েছেন ৫হাজার ৭শ ৬৯ ভোট। এছাড়াও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. ইউচুপ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৩হাজার ৮শ ৫৫ ভোট।
গত সোমবার বিকাল ৪টায় ১৪টি কেন্দ্রের ভোট গণণা শেষে বেসরকারি-ভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. এটিএম কাউছার হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ৯৮টি বুথে ২৭হাজার ৯শ ৯২টি ভোটের মধ্যে কাস্ট হয়েছে ১৬হাজার ২শ ৯৮টি ভোট।
এদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পুন্যকান্তি ত্রিপুরা (ধানের শীষ) ৫ হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী স্বতন্ত্র প্রার্থীী থোয়াইঅংগ্য চৌধুরী পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৬৮ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ঝর্ণা ত্রিপুরা নৌকা প্রতীক নিয়ে ৮ হাজার ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনৌনীত প্রার্থী হ্লাউসিং মারমা পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৯৪ ভোট।
এদিকে ভোট গ্রহণকালে বিকালে গুইমারা হাইস্কুল কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত ১জনকে ২হাজার টাকা জড়িমানা করে। এর আগে দুপুরে জালিয়াপাড়া এলাকায় ভোট কেন্দ্রের বাহিরে আওয়ামীলীগ-বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ৩জন আহত হওয়ার ঘটনা ছাড়াও কোথাও কোন বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অপরদিকে, দুপুরে জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবু তালেব স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, প্রশাসনের সহায়তায় ভোট কারচুপি করেছে আওয়ামীলীগ। তবে জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে ১১জন ম্যাজিষ্ট্রেট, ৩প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ২টি বিশেষ টীম, পুিলশ ও আনসার ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি দুর্গম এলাকাগুলোতে সেনা সদস্যদের টহলে ছিল। এদিকে, খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার প্রথম নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। গত সোমবার সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হলেও প্রচুর বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সকাল প্রায় ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রে গুলোতে ভোটার উপস্থিতি খুব কম ছিল। ১৪টি ভোট কেন্দ্রের অনেক বুথছিল একবারেই ফাঁকা। বৃষ্টি থামার পর বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। তবে হাফছড়ি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পাহাড়ি-বাঙ্গালী ভোটাররা ভোট প্রয়োগ করেছেন। বৃষ্টিতে কষ্ট হলেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা ।