আওয়ামী লীগের আলোকোজ্জ্বল বাংলাদেশ

খুরশীদ আলম : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংগ্রামী রাজনৈতিক দল। বাঙ্গালীর অধিকার আদায়ের জন্যই সংগ্রামী রাজনৈতিক দলটির গোড়াপত্তন হয়। প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকেই গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সোচ্চার রাজনৈতিক দলটির অসংখ্য নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সংগ্রামী ভূমিকায় ইতিহাসের বাকেঁ বাকেঁ একেঁছে রক্তাক্ত পদচিহ্ন। মহান দেশপ্রেম ও মানুষের কল্যাণে সংগ্রামী দলটির আদর্শবান কর্মীরাই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি। ১৯৭০ সাল থেকে এর নির্বাচনী প্রতীক নৌকা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বিশ্বে পরিচিত। ১৯৭১ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর এই সংগঠনটির নামাকরণ হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা তথা সকল ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সমাজতন্ত্র তথা শোষণমুক্ত সমাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূলনীতি।
১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক নির্বাচিত হন। শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়,এসময় শেখ মুজিব কারাগারে অস্তরীণ ছিলেন। অন্যদিকে সমগ্র পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংগঠনটির নাম রাখা হয় নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। এর সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৫২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে পরের বছর সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হলে ১৯৬৬ সাল পর্যস্ত ১৩ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিব। ১৯৫৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দলের তৃতীয় সম্মেলনে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নাম ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বসহ ৪২ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করে। শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলার স্বীকৃতি, এক ব্যাক্তির এক ভোট, গণতন্ত্র, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় পদ্ধতির সরকার, আঞ্চলিক স্বায়ত্ত্বশাসন এবং তৎকালীন পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি ৬ দফা আন্দোলনের সূচনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হিসাবে আওয়ামী লীগ ও নেতৃত্বে শেখ মুজিবুর রহমানের উত্থান ঘটে এবং ১৯৬৯ নাগাদ দলটি পূর্ব পাকিস্তান তথা বাঙালি জাতির প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খানের সামরিক জান্তার পতন ঘটলেও সামরিক শাসন অব্যাহত থাকে। ১৯৭০-এর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্থানীরা ক্ষমতা হস্তাস্তর না করে গণহত্যা চালালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহকর্মীগণ স্বাধীনতার দীর্ঘ সংগ্রামে যে প্রজ্ঞা ও দূরদর্শীতার সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছেন তা বিশ্বের স্বাধীনতাকামী গণমানুষের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টাস্ত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু সহকর্মীদের আত্মগোপনে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর নির্দেশ দেন এবং নিজে আত্মগোপনে না গিয়ে রাত ১২ টার পর ওয়ারলেসে স্বাধীনতার ঘোষণা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। রাত ১:৩০ টায় পাকিস্থানী বাহিনীর হাতে তিনি গ্রেফতার হন। বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতারে স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরু দায়িত্ব তাঁর সহকর্মীদের উপর বর্তায়। এপ্রিলের প্রথমার্ধে তাজউদ্দীন আহমদ ভারতে পৌছে অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও ভারত সরকারের নিকট সাহার্য্য প্রার্থনা করেন। ১৭ই এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে প্রবাসী সরকার গঠন, শপথ গ্রহণ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও প্রবাসী সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়। এই সরকারের অস্থায়ী কার্যালয় হয় কলকাতায় ৮ নং থিয়েটার রোড। মুজিব নগর সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো মুক্তিযুদ্ধকে গতিময় করে বাংলাদেশকে হানাদার মুক্ত করা, ভারতের সাহায্যে শরনার্থী পূর্ণবাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। প্রবাসী সরকার সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য পাকিস্তান বাহিনী থেকে আগত অফিসার, জোয়ান,ইপিআর, পুলিশ,যুদ্ধাগ্রহী ছাত্র-যুবক এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিয়ে প্রথমে মুক্তিফৌজ পরে মুক্তিবাহিনী নামে যে দুর্ধষ বাহিনী গড়ে তোলে দীর্ঘ নয় মাসে সেই বাহিনীই লাল সবুজের পতাকাকে স্বাধীন বাংলার আকাশে উড়িয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ যেমন আন্দোলন সংগ্রামে সফল তেমনি যুদ্ধোত্তর বিধ্বস্থ সম্পদবিহীন বাংলাদেশকে ঋণাত্মক অবস্থান থেকে অতি অল্প সময়ে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের মত কঠিন কাজ সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে অর্জিত স্বাধীনতায় বঙ্গবন্ধু সংবিধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ, লাল সবুজের পতাকা, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা। জনগণের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরনার্থে শিল্পবাণিজ্যের রাষ্ট্রীয়করণ, কৃষিখাতে সমবায় পদ্ধতি। এতে নয়া উপনিবেশবাদীদের গাত্রদাহের কারণ দাড়াল বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ। শুরু হয় ষড়যন্ত্র, ১৯৭৪’র দুর্ভিক্ষ ছিল দেশীয় কুচক্রীদের ষড়যন্ত্র ও মার্কিনিদের অমানবিক খাদ্য কূটনীতি। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ (বাকশাল) গঠন করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বাকশাল গঠনের তিন মাসের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট থেকে ৩রা নভেম্বরের স্বাধীনতার ইতিহাসের নায়কদের নির্মম হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে শুধূমাত্র আওয়ামী লীগকে নয় বাংলাদেশকে নেতুত্বশূন্য জাতিতে পরিণত করে আঘাত হেনেছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, বঙ্গবন্ধুর অর্জিত জাতীয়তাবাদে; ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র হয় পরিত্যাজ্য ও গণতন্ত্র হলো সামরিকতন্ত্র। ঘৃণ্য হত্যাকান্ডকে বৈধতা দিতে হলো ইন্ডেমনিটি, অবৈধভাবে সংবিধান পরিবর্তন। বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের স্থপতিরূপে অস্বীকারের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র, নিষিদ্ধ করা হলো বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারী গণমাধ্যমে। সংঘবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে অপপ্রচার চালানো হলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। আওয়ামী লীগের তৎসময়ের নেতৃবৃন্দ কার্যকর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। দুঃসময়ের সেইক্ষণে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮০ সনে দেশে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দলের হাল ধরেন। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর আরেক সামরিক শাসক হু.মু. ্এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করে। এই আন্দোলন চলাকালে ১০ই নভেম্বর পুলিশের গুলিতে যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন নিহত হলে আন্দোলন গণঅভুত্থানে রুপ নেয় এবং ৯০’র ৬ই ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতন হয়। পরবর্তী নির্বাচনে জিয়ার গঠিত দল বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। বিএনপির শাসনামলে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে। বিএনপি আমলের শেষদিকে আওয়ামী লীগ জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে গণআন্দোলন গড়ে তুলে নতুন প্রজম্মের বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা আবারও অবতীর্ণ হয় আদর্শের লড়াইয়ে। ৯৬’র ১৫ই ফেব্রুয়ারী বিতর্কিত নির্বাচন করেও বিএনপির পতন হয়। পরবর্তী নির্বাচনে দীর্ঘ একুশ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতায় আরোহনের ১৯৯৬-২০০১ সাল ছিল সাফল্যের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। বাংলাদেশ খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাস্তিচুক্তি, ২১ ফেব্রুয়ারি আস্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা অর্জন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ লাভ, ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের অভিষেক আস্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে নতুন মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত করে। শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেশনজট দূরীকরণ ছিল জাতির অগ্রগতির পরিচায়ক। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অর্জিত হয় সাফল্য। শিল্প-কারখানা স্থাপন ও বেসরকারি উদ্যোগকে সুযোগ দিয়ে লাখ লাখ বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি উদ্যোগে প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য ১টি করে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়। মোবাইল ফোন, শুল্কহার কমিয়ে কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তিকে সকলের জন্য অবারিত করে দেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করে। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার, জেলহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু এবং আইন সংস্কার কমিশন গঠন প্রভৃতির মাধ্যমে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পদপে গ্রহণ করা হয়। দেশকে পুনরায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং বাঙালি সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে পুনরুজ্জীবিত করতে গ্রহণ করা হয় নানামুখী পদক্ষেপ। কিন্তুু দেশ পরিচালনায় সাফল্যের পরও ২০০১ সনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজয় বরণ করতে হয়। এরপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট শাসনামলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা, নিপিীড়ন নির্যাতন করা হয়। দেশব্যাপী জঙ্গী হামলা ও তৎপরতার প্রসার ঘটে। ২০০৪ সালের ২১শে আগষ্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। দেশব্যাপী হত্যা নির্যাতন, মানুষের নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পানি গ্যাস বিদ্যুত সংকট ও জালভোটার বাদ দিয়ে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ণের জন্য আওয়ামী আন্দোলন গড়ে তোলে। ঢাকার রাজপথ গণমানুষের সমর্থনে আওয়ামী লীগের আন্দোলনে প্রকম্পিত হয়ে উঠে। ক্ষমতা হস্তাস্তরে চারদলীয় জোটের ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের পতন হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসেই মাইনাস ফমূর্লা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রে শেখ হাসিনাকে বিদেশেে থকে দেশে ফিরতে বাধা দিলে দৃঢ়তার সহিত মোকাবেলা করে দেশে ফিরেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। দিন বদলের সনদ নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধের বিচার করার লক্ষ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার কার্যক্রম শুরু করে। বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাইল ফলক রচিত করে যার অন্যতম ডিজিটাল বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকার মূল এজেন্ডা যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জঙ্গী সন্ত্রাস দমন যা বিশ্বে মডেল বলে বিবেচিত হয়। যুদ্ধাপরাধের বিচার ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করেছে। মেয়াদশেষে ২০১৪ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত নির্বাচন বিএনপি জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তারই ধারাবাহিতায় রূপকল্প – ২০২১ নাগাদ জাতীয় প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত, শিল্পে জাতীয় আয়ে ৪০ শতাংশে, গড় আয়ু ৭০,মাতৃমৃত্যু হার ১.৫ এবং শিশুমৃত্যু হার প্রতি হাজারে ১৫, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের হার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। জঙ্গী দমনে সাফল্যের পর সরকার মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। ছয় শতাংশের বৃত্ত ভেঙ্গে উচ্চ প্রবৃদ্ধির সোপানে আরোহন এবং মাথাপিছু আয়ের ধারাবাহিক উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশের কাতারে সামিল হওয়া আওয়ামী লীগের চুড়ান্ত লক্ষ্য।
বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া বিশ^ব্যাপী স্বীকৃত। জাতিসংঘের সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা ২০১৫ সালের নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন,অটিজম,প্রযুক্তির প্রয়োগ ও নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন সরকারের আত্মবিশ^াস বাডিয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণার মধ্য বাংলাদেশকে উন্নত বিশে^র কাতারে সামিল করতে ২৬টি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। রূপকল্পের মুখবন্ধে বলা হয়েছে- আলোকজ্জল ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। এবারের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর লগ্নে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের নতুন আধুনিক ভবন উদ্বোধন করতে যাচ্ছে।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর আ¤্রকাননে নবাব সিরাজদৌল্লার পরাজয় বাংলার স্বাধীনতার সূর্যকে দুইশত বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে দেয়। এরপর ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলার জনগণের অধিকার আদায়ের যে সংগ্রাম শুরু করে, দীর্ঘ ২৪ বছরের অধিকার আদায়ের সংগ্রামই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলার আকাশে স্বাধীনতার সূর্যকে পুনরায় উদিত করে। আজ ২৩শে জুন আধুনিক দলীয় কার্যালয় উদ্বোধনে রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামই হোক আজকের প্রতিষ্ঠাবর্ষিকীর অঙ্গীকার। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
লেখক: খুরশীদ আলম, আইনবিদ ও রাজনীতিক
মেইল: ষধ.িপবহঃবৎ@ুসধরষ.পড়স

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২৬ বছর পূর্তি উদযাপন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে অঙ্গিকারাবদ্ধ ——পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আইন বহাল রাখার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে আশু করণীয় শীর্ষক-গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত : উপনিবেশিক ও অসাংবিধানিক ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আইন বহাল রাখার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে হবে–সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক এমপি