মংবোওয়াংচিং মারমা (অনুপম) :: দুইদিন আগেই বান্দরবান বাজার হতে বিভিন্ন দোকান হতে কালেকশান করে ষ্টেশনারী ও নিত্য প্রয়োজনীয় চাল ডাল প্যাছ মরিচসহ মালামাল আনা হয়েছিল সব মিলে নগদ ১৫ লক্ষাধিক টাকার মূল্যে তা দোকানে সাজানো গুছানো হলো মাত্র ভোরের ভয়াবহ আগুনের কেড়ে নিল আমার জীবনের সব সঞ্চয়ী প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মূল্যে মালামাল অশ্রুভরা ও কাঁন্না কন্ঠে কথাটি বলেছিলেন ব্যবসায়ী নিকুজ্ঞ বড়–য়া ৫৬, তিনি ১৯৭১ সাল থেকে এক টানা ব্যবসা করে আসছিলেন বান্দরবানে থানচি উপজেলা সদরে এক মাত্র বাজারটিতে । একই অবস্থা মোঃ সামশু আলম ৬২,রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা করে আসছিলেন কিন্তু বিগত ২০০৬ সালে অগ্নিকান্ড পর তিনি কসমেটিক্স কাপর জুতা ব্যবসা শুরু করেন। মোঃ মোসলেম উদ্দিন ৬৫ শুরু থেকেই ঔষধে ফার্মেন্সি দোকান করে আসছিলেন ।
তারা সকলে প্রতিবেদককে বলেন, থানচি বাজারে ৫বার আগ্নিকান্ড ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্থ অনেক তবে ঘুরে দাড়াঁনো চেষ্টায় আমাদের বয়স ও জীবনে শেষ বার । তাদের বর্ণনানুযায়ী ১৯৭১ সালে অগ্নিকান্ড একবার তিন বছর অতিক্রমে ১৯৭৪ সালে একবার, ১৯৯৭ সালে বন্যা ক্ষতি সুদরাতে গিয়ে ১৯৯৮ সালে ১২ জুন অগ্নিকান্ড, ৯বছর পর ২০০৬ সালে ৬ ই অক্টোবর এর ১৪ বছর পর ২০২০ সালে ২৭শে এপ্রিল অগ্নিকান্ড ঘটনাটি বিশাল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিমান এবারে সব চেয়ে বেশী হয়েছে ।
বাজার পরিচালনা কমিটি সাবেক সভাপতি ও সাবেক সদর ইউপি মেম্বার নুরুল কবির সওদাগর ৬৫ বলেন,এক সময় যোগাযোগ বিছিন্ন কারনে বাজারের সম্পূর্ণ দোকান ঘর গুলি বাঁশ এবং কাঠ দিয়ে নির্মাণ করতে হয়েছে ।২০১১ সালে থানচি বান্দরবান সড়কে সাংগু নদীর উপর একটি বিশাল সেতু সরকার নির্মাণ করার ফলে এবারের আমরা যোগাযোগ ক্ষেত্রে সাফল্য আসছে সুতারাং ঘুড়ে দাঁড়ানো চেষ্টা হবে অন্তত পক্ষে ইটের পাক্কা বা আধা ও পাক্কা দোকান ঘর নির্মানে দিকে এগোচ্ছে । অগ্নিকান্ড হলেও ক্ষতিটা তেমন কোন হবেনা । প্রবীণ ব্যবসায়ী মংউচিং মারমা ৬৫ বলেন, বর্তমান সরকার আমাদের একটি ফাইয়ার ষ্টেশন ও দুই একটি ইট ভাটা নির্মান করে দিয়েছে । অবশ্যই আমরা ঘুরে দাড়াঁবো আমাদের মনোবল এখন ও হাড়াইনি ।
খোজ নিয়ে জানা যায়,বিগত ২৭ এপ্রিল এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে রিড হোল্ডিং ট্রেড সেন্টার লিঃ এর তিন তলা ভবনের প্রায় এক কোটি টাকা পরিমান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে হোল্ডিং এর ব্যবস্থাপক মোঃ রোকন উদ্দিন জানান। এদিকে থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবেক জাহাঙ্গির আলম জানান, রিড হোল্ডিং ট্রেড সেন্টার লিঃ হইতে আমাদের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী সমবায় সমিতি ভবনে দুই ও তিন তলা ৯৯ বছরের জন্য রেষ্টুরেন্ট ও আবসিক হোটেল ব্যবসা শুরু করি । কিন্তু সম্প্রতি অগ্নিকান্ডে আমাদের রেষ্টুরেন্টে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহাতে প্রায় এক কোটি টাকা মত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে । তিনি বলেন আমরাও ঘুড়ে দাড়াঁনো প্রচেষ্টা ভবনটিতে পূনঃরায় সংস্কার করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ।
থানচি বাজার পরিচালনা কমিটি সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় থানচি উপজেলা ঢাইয়ার ষ্টেশনে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে নির্মিত হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সম্পূর্ণ সরজ্ঞাম পৌছে যাবে । এর মধ্যে উপজেলা প্রশাসন, বাজার ফান্ড প্রশাসন এবং মাননীয় মন্ত্রী বীর বাহাদুর (উশৈসিং) এমপি নির্দেশ পরমর্শ অনুযায়ী বাজারের অভ্যন্তরীণ রাস্তা গুলি প্রসস্থ করা হয়েছে এবং পাক্কা. আধাপাক্কা করার আমাদের সকলের পরিকল্পনা রয়েছে ।
নবীণ ব্যবসায়ী মোঃ শাহজাহান বলেন, বৌদ্ধ ধর্মীয় সাংগ্রাই উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম হতে নতুন কাপর চোপর ক্রয় করে বিক্রয়ের জন্য আনা হয়েছিল প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যে লকডাউনের দোকান বন্দ । ভাবলাম ঈদের বিক্রয় করার কিন্তু তা হলোনা আগুন কেড়ে নিল । আমাদের ভোটার আইডি কার্ড, বিদ্যুৎতে মিটার, দোকান ভাড়া যাবতীয় কাগজ পত্র সহ পুরে ছাই তবুও বেঁচে থাকার জন্য আমাদের ঘুড়ে দাঁড়াতে হবে ।
থানচি বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষ নিয়োগকৃত বাজার চৌধুরী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো বলেন, আমরা সরকারি আইন মেনে অপরিকল্পিত বাজারটিকে এবারে পরিকল্পিত বাজারের রুপান্তরিত করার জন্য উপজেলা পরিষদ. প্রশাসন আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীদের সমন্বয়ে ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট অলিগলি সব ঠিক করে ফেলেছি । এবারে উঠে দাঁড়ানো প্রচেষ্টা সকলের ।
উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামং মারমা বলেন, আগুনের ক্ষতি হলে যে ক্ষতি হয় সেই বুঝে । ফের ঘুড়ে দাড়াঁনো সময় থানচি বাজারের ব্যবসায়ীদের পাক্কা ও আধা পাক্কা দোকান ঘর নির্মানের সংশ্লিষ্ট উর্ধত্ব কর্তৃপক্ষ স্বল্প ও দির্ঘমেয়াদি ব্যাংক লোনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হলে এই সময়ের অবশ্যই প্রয়োজন বলে মনে করেন। প্রশাসনিকভাবে দোকানে মেজার্মেন্ট সম্পন্ন করা হয়েছে গতকাল থেকে দোকান ঘর উঠানো শুরু করে দিয়েছে ।
উল্লেখ্য বিগত ২৭ শে এপ্রিল এক ভয়াবহ আগুনে প্রায় ২শত দোকান ঘর পুরে ছাই হয়েছে । এর সাথে দোকানে সরকারি বিদ্যুৎতে মিটার,ভোটার আইডি কার্ড, জন্মনিবন্ধন কার্ডসহ সরকারিভাবে মোট ৩৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যে মালামাল ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *