১০ জন গুনীজনকে সম্মাননা দিয়েছে রাঙ্গামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমী

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অবদানের স্বীকিৃতির জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় আগামী বছর থেকে গুনীজনদের সম্মাননা জানাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সম্মাননা জানানো না গেলে আগামীতে কোন ক্রীড়াবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উঠে আসবে না। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমী যে ১জন গুনী ব্যক্তিকে সম্মাননা দিয়েছে তাদের দেখে আগামী দিন গুলো আরো প্রতিভার সৃষ্টি হবে। এই প্রতিভারাই একদিন পার্বত্য অঞ্চলের সুনাম দেশ বিদেশে ছড়িয়ে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাঙ্গামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গতকাল ২ মার্চ রাঙ্গামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে সমাজে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসমান্য অবদান রাখায় ১০ জন গুনীজনকে সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য ও শিল্পকলার আহবায়ক মনোয়ারা আক্তার জাহান। গুনীজনদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন রাঙ্গামাটির প্রাক্তন শিক্ষা অফিসার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং আবৃতিকার হিসাবে গুনীজন সম্মাননা প্রাপ্ত অঞ্জুলিকা খীসা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক বুলবুল।
বীর বাহাদুর বলেন, যে দেশে গুনীদের কদর করা হয় না সে দেশে কখনোই গুনী জন্ম গ্রহণ করে না। গুনীদের কদর করতে না জানলে নিজের প্রতিভাও প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের আনাচে কানাচে অনেক গুনী শিল্পী ও ক্রীড়াবিদ পড়ে আছে তাদের ঠিক মতো গড়ে তুলতে পারলেই আগামী দিন গুলোতে পার্বত্য অঞ্চলে নাম দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে। তিনি আরো বেশী বেশী সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানান।
তিনি রাঙ্গামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন। রাঙ্গামাটিতে অনেক ক্ষুদে খেলোয়াড় রয়েছে তাদের সঠিক ভাবে তৈরী করতে পারলেই আগামীতে পার্বত্য অঞ্চলের অনেক ক্রীড়াবিদ তৈরী হবে। তিনি রাঙ্গামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা যদি ফুটবল লীগ শুরু করে তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা প্রদানের ঘোষণা প্রদান করেন। এছাড়া রাঙ্গামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে সম্মাননা প্রাপ্ত ১০ জন গুনীজনকে তার পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করেন বীর বাহাদুর এমপি।
মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কথা দেশ বিদেশে ছড়িয়ে দিতে আমাদের সকলকে আরো বেশী কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমাদের পাশে রয়েছে। তার হাত ধরেই আমরা আগামী দিনে এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরো উপরে নিয়ে যাবো এই আশা প্রকাশ করছি।
সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, চারুকলায় রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, যাত্রা শিল্পী হিসাবে নন্দ রানী চাকমা, কন্ঠ সংগীতে ফনীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, নৃত্যকলায় হুমায়ুন কবীর, যন্ত্র শিল্পী ধারশ মনি চাকমা, লোক সংস্কৃতিতে আনন্দলতা চাকমা, আবৃত্তিতে অঞ্জুলিকা খীসা, কন্ঠ সংগীতে অমর শান্তি চাকমা, নাট্যকলায় ঝিমিত ঝিমিত চাকমা, যন্ত্রশিল্পী হিসাবে ঝুলন দত্ত।
আলোচনাসভা শেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি ও অন্যান্য অতিথিরা গুনী ব্যক্তিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২৬ বছর পূর্তি উদযাপন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে অঙ্গিকারাবদ্ধ ——পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আইন বহাল রাখার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে আশু করণীয় শীর্ষক-গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত : উপনিবেশিক ও অসাংবিধানিক ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আইন বহাল রাখার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে হবে–সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক এমপি