করোনা ভাইরাসে পরিবহন সংকটে রাঙ্গামাটি মৌসুমী পণ্যে ব্যবসায় ধ্বস

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ করোনা ভাইরাসের অজুহাতে পরিবহন সংকট দেখিয়ে রাঙ্গামাটি মৌসুমী পণ্যে ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। গতকাল সকালে রাঙ্গামাটি সাপ্তাহিক হাট বাজারে শত শত বোট আনারস ও কাঠাল নিয়ে বিপাকে পড়েছে চাষীরা। গতকাল রাঙ্গামাটির বনরূপা বাজার সমতা ঘাট এলাকায় ক্রেতারা মৌসুমী পণ্য ক্রয় না করায় বিক্রি করতে আসা চাষীরা মাথায় হাত পড়েছে।
বাজার এলাকায় আসা চাষীরা বলেন, বর্তমান করোনা যুদ্ধে রাঙ্গামাটির কাচা পণ্যে ব্যবসায় ধ্বস নামলেও আজ হঠাৎ করে ব্যবসায়ীরা মালামাল ক্রয় না করায় আমাদের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। এই অবস্থায় কাচা মাল গুলো বিক্রি করতে না পারলে বউ ছেলে মেয়ে নিয়ে আমরা বিপাকে পড়ে যাবো। তারা বলেন, এই মালামাল বিক্রি করে বাড়ীতে বাজার করে নিয়ে যেতে হবে। তা না হলে বাড়ীর সবায় উপোষ করতে হবে।
বাজারের কাঠাল নিয়ে আসা এক চাষী বলেন, নিজের বাগানের কাঠাল প্রতিবছর কয়েক লক্ষ টাকা বিক্রি করি। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কাঠালের তেমন দাম পাওয়া না গেলেও গাছের বাতি কাঠাল গুলো বাজারে নিয়ে গিয়ে কিছুটা কম দামে হলেও বিক্রি করতে পেরেছি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে কোন পণ্য ক্রয় করছে না। তাই ভোর ৫ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে আছি। কোন ক্রেতা কাঠাল ক্রয় করছে না। তিনি বলেন, ব্যবাসয়ীরা বলছে কাঠাল নিয়ে রাঙ্গামাটির বাইরে যেতে পারছে না বলে তাই ক্রয় করছে না।
এদিকে এক ব্যবসায়ী মোঃ হামিদ জানান, গতকাল আমরা প্রায় ২ লক্ষ টাকার কাঠাল ক্রয় করেছি। কিন্তু গতকাল হঠাৎ করে রাঙ্গামাটি প্রশাসন থেকে পন্য পরিবহন চট্টগ্রামে বাইরে বন্ধ করে দেয়ায় আমি এই কাঠাল গুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছি। তিনি বলেন, কাঠাল গুলো আর এক দিন যদি এই ভাবে বোটে থাকে তাহলে সব কাঠাল পেকে যাবে। তিনি প্রশাসনের কাছে কাঠাল গুলো চট্টগ্রামে বাইরে পরিবহনের অনুমতি প্রদান করতে জেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান।
এদিকে রাঙ্গামাটি মৌসুমী পণ্য ব্যবসায়ী মোঃ সোহেল জানান, রাঙ্গামাটির মৌসুমী পণ্য কাঠাল, আনারস ও কলা সহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা গুলো রাঙ্গামাটির পণ্য ব্যবসায়ীরা পুরণ করে। তারা রাঙ্গামাটির বিভিন্ন বাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে রাঙ্গামাটির চাহিদা মিটিয়ে পুরো বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করে। প্রতিদিন রাঙ্গামাটির বাজার থেকে ৬০ থেকে ৭০ ট্রাক মৌসুমী পণ্য রাঙ্গামাটির বাইরে রপ্তানী করে। কিন্তু গতকাল রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন থেকে চট্টগ্রামের বাইরে মালামাল পবিরহন করতে নিষেধ কওে দেয়ায় আমরা মালামাল ক্রয় করছি না। কারণ চট্টগ্রামে মাত্র আমরা ৫ থেকে ১০ গাড়ী মালামাল বিক্রি করতে পারবো। অন্য পন্য গুলো আমরা বিক্রি করতে না পারলে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হবে। তাই আমরা নিজেদের ক্ষতি কাটাতে বাধ্য হচ্ছি।
এই দিকে মৌসুমী পণ্য ব্যবসায়ীর সভাপতি মোঃ রহিম বলেন, রাঙ্গামাটির মানুষের কথা চিন্তা কওে আমরা পন্য ব্যবসা করছি। নিজেদের লাভ ক্ষতির কথা চিন্তা কওে আমরা দিনের পর দিন রাঙ্গামাটিতে ব্যবসা কওে আসছি। রাঙ্গামাটি জেলায় প্রতিটি বাজারে থেকে আমরা ৫০/৬০ ট্রাক আনারস, কাঠাল, কলা সহ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানী করছি। কিন্তু গতকাল হঠাৎ করে প্রশাসন থেকে পন্যে পরিবহনের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারী করায় আমরা পন্য ক্রয় করছি না। এই খবর পেয়ে প্রশাসন থেকে আমাদেরকে আজকে পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের অনুমতি দিয়েছি। কিন্তু কাল থেকে আমরা কি করবো না। যদি অনুমতি না পায় তাহলে আমরা মালামাল ক্রয় করবো না। ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য থাকবো।
এই বিষয়ে রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সুফি উল্লাহ বলেন, দেশের করোনা আতংকের কারণে যানবাহন চলাচলে আমরা কিছুটা শিথিলতা নিয়ে এসেছি। চট্টগ্রামের বাইরে কোন যানবাহন আমরা অনুমতি দিচ্ছি না। তাই এই অবস্থায় তারা পন্য নিয়ে চট্টগ্রামের বাইরে যেতে পারছে না। সকলের মঙ্গলের জন্য আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২৬ বছর পূর্তি উদযাপন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে অঙ্গিকারাবদ্ধ ——পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আইন বহাল রাখার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে আশু করণীয় শীর্ষক-গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত : উপনিবেশিক ও অসাংবিধানিক ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আইন বহাল রাখার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে হবে–সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক এমপি