নগদ টাকাসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস্ত্র ও গুলি ছিনতাই, পরিদর্শনে আইজিপি রুমার ও থানচিতে সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতি, অভিযোগ কেএনএফের বিরুদ্ধে, ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ

॥ বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বান্দরবানের রুমায় অভিনব কায়দায় মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাতের আধারে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছে। এ ঘটনায় নগদ টাকাসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস্ত্র নিয়ে যায়। এসময় ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরন করা হয়। রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দিদারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে রুমা উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় ৭০/৮০ জনের আধুনিক অস্ত্র সশস্ত্র সজ্জিত সশস্ত্র সদস্যরা রুমা সদরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের গ্রীল ভেঙ্গে প্রবেশ করে। তারপর ব্যাংক ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দিনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা নিয়ে যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। তবে আনুমানিক দেড় থেকে দুই কোটি টাকা অনুমান করা হলেও কি পরিমাণ টাকা লুট হয়ে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডাকাতির সময় ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে দশটি অস্ত্র ও ৩৮০ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। ব্যাংকের অদূরে থাকা আনসার ব্যারেক থেকে চারটি অস্ত্র ও ৩৫টি গুলি ছিনিয়ে নেয় সশস্ত্র এই সন্ত্রাসীরা। ওই সময় পুলিশ ও আনসারকে মারধর করে। ওই সময় ব্যাংকের লাগুয়া থাকা অফিসার কোয়ার্টারে অবস্থান করা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বেশ কয়েকজন কর্মামচারী মারধরের শিকার হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংকে টাকাগুলো মঙ্গলবার (২এপ্রিল) বান্দরবান সদর থেকে রুমা সোনালী ব্যাংকে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানায়, এসময় উপজেলা মসজিদ ঘেরাও করে মসুল্লিদের মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। সশস্ত্র সদস্য একটি অংশ উপজেলা পরিষদ এলাকায় ব্যাংক থেকে প্রায় একশ গজ দুরে আলমগীর চা দোকানের সামনে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে প্রহরা দেয় সশস্ত্র সদস্যরা। তখন রুমা বাজার দিক থেকে আসা সাধারণ যাত্রী ও মোটরবাইকসহ যাত্রীদের আটকিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে লোকজন বেধরক পিটিয়েছে।
একইভাবে উপজেলা পরিষদের পশ্চিম দিকে সেগুন বাগান নিচে ছোট্ট কালভাটের পাশে রাস্তা গতিরোধ করে মোটরবাইক ও যাত্রীদের আটকিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিস যা থাকে সব ছিনিয়ে নিয়ে সবাইকে মারধর করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এঘটনার ভুক্তভোগীরা জানায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে আধুনিক অস্ত্র ও মুখে কাপড় ঢাকা ছিল। তাই তাদের চেনা না গেলেও বাংলা ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের মধ্যে ফিশফিশে বম ভাষায় কথোপকথনের ভাষার সুর শুনতে পেরেছেন-অনেক ভুক্তভোগী ও মারধরের শিকার হওয়া লোকজন।
আর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে কুকি চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর বিরুদ্ধে। তবে তাৎক্ষণিক কেএনএফ এর দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সুপার সৈকত শাহিন বলেন, মঙ্গলবার রাতে ব্যাংক লুটপাট করা পর যারা নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিল তাদের কাজ থেকে এসএমজি, রাইফেলসহ ১৪টি ও গুলি রাউন্ড ৪১৫টি নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে দ্রুত আইনে আওতায় আনতে সক্ষম হবো।
এদিকে এই ঘটনার পর সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে, এলাকায় আতংক বিরাজ করায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকে টাকা সংরক্ষণ করা লোহার বাক্সের তালা খুলতে পারেনি। মূলত এ কারণে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোঃ নেজাম উদ্দিনকে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় পরিদর্শন করেছেন পুলিশের আইজিপি চৌধুরী আব্দুল মামুন। ব্যাংক পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার পর মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং ডাকাতির ঘটনায় আহত পুলিশকে দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।
পরে আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংক ডাকাতি ও পুলিশের অস্ত্র লুটকারী সন্ত্রাসীদের কোন প্রকার সার দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ সময় বান্দরবান রিজিওনের রিজিয়ন কমান্ডার জেনারেল মেহেদী হাসান, জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে উপজেলা সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্যোগে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিন এর নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিন এর নিঃশর্ত মুক্তি, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিরাপত্তা বিধান ও ব্যাংক ডাকাতিসহ পুলিশের অস্ত্র লুটকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে ব্যাংক ডাকাতের ঘটনাটি সশস্ত্র সংগঠন ও কিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে কেএফএফ’র পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত থেকে তাদের ফেসবুক পেইজে বা লিখিত কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। তবে ডাকাতির সময় কেএনএফ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সাথে মিয়ানমারের চীন স্টেট এর বিচ্ছিন্নতাবাদী একটি গোষ্ঠীর কিছু সদস্য ও থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে রুমার সোনালী ব্যাংক ডাকাতির পর বান্দরবান-রুমা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং ব্যাংকের যাবতীয় লেনদেন বন্ধ থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এবার ভরদুপুরে সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতি
এদিকে, বান্দরবানের থানচিতে ভরদুপুরে সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। তবে ব্যাংকের ভল্ট এখনো অক্ষত আছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুটি গাড়িতে করে মোট ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল এ ডাকাতিতে অংশ নেয়। থানচি থানার ওসি জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি।
সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার ওমর ফারুক বলেন, ডাকতরা ব্যাংক থেকে টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। আমাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অফিসিয়ালি ঠিক কত টাকা লুট হয়েছে তা তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না।
ডাকাতির শিকার হওয়া সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক ভুক্তভোগী আরমান বলেন, আমি ভেতরে ছিলাম, ডাকাতরা মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মোবাইল ফোনসহ আমার সঙ্গে থাকা সব টাকা নিয়ে গেছে।
থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মামুন ঘটনা স্বীকার করে জানান, দু’ টি ব্যাংকে মোট ১৭ লক্ষ ৪৫ হাজার লুট করে নিয়েগেছে সন্ত্রাসীদল।
এর আগে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রুমায় সোনালী ব্যাংক থেকে অস্ত্র ও টাকা লুট করে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২৬ বছর পূর্তি উদযাপন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে অঙ্গিকারাবদ্ধ ——পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আইন বহাল রাখার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে আশু করণীয় শীর্ষক-গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত : উপনিবেশিক ও অসাংবিধানিক ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আইন বহাল রাখার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে হবে–সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক এমপি